নতুন নিয়মের অধীনে আইআরজিসি-কে সমর্থন করা, তাদের সহায়তা করা, এমনকি তাদের পক্ষে ইতিবাচক মতামত প্রকাশ করাও এখন থেকে একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
আইআরজিসি ছাড়াও যুক্তরাজ্যে নাশকতা ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আরও দুটি গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এগুলো হলো- ইসলামিক মুভমেন্ট অফ কম্প্যানিয়নস অফ দ্য রাইট (আইএমসিআর) এবং রাশিয়ার জিআরইউ (বিদেশী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা)-এর স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। গুপ্তচরবৃত্তি, বিদেশি হস্তক্ষেপ, অন্তর্ঘাত এবং শারীরিক হামলা মোকাবেলায় দেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে এখন থেকে নতুন ও বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হবে।
যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫-এর তথ্যমতে, গত এক বছরে যুক্তরাজ্যে জনগণের বিরুদ্ধে ইরান-সমর্থিত অন্তত ২০টি সম্ভাব্য প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। আইআরজিসি মূলত ইহুদি সম্প্রদায় ও ইরানি ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্যবস্তু করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যে ইহুদি ও ইসরায়েলি সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত স্থানগুলোতে অন্তত সাতটি হামলার পেছনে আইআরজিসি জড়িত। এর মধ্যে গত ২৩শে মার্চ গোল্ডার্স গ্রিনে চারটি হাতজোলা অ্যাম্বুলেন্সের ওপর ইহুদি-বিদ্বেষী অগ্নিসংযোগের ঘটনা উল্লেখযোগ্য, যার দায় প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিল আইএমসিআর।
এই কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ কড়া বার্তা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ব্রিটেনকে এমন রাষ্ট্রগুলোর খেলার মাঠ হতে দেওয়া হবে না, যারা রাস্তায় ভয়, বিভেদ ও সহিংসতা ছড়াতে চায়। স্বরাষ্ট্র সচিব শাবানা মাহমুদ বলেন, ইরান ও রাশিয়া তাদের উপকূলে নোংরা কাজ চালানোর জন্য দালাল ও গুণ্ডা ব্যবহার করছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ঈগল উল্লেখ করেন, ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী হলো ইরানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি কেন্দ্রীয় অংশ, যা সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে জবাবদিহি করে এবং এর ভূমিকা একটি প্রচলিত সামরিক শক্তির চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।
প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের এপ্রিলে 'জাতীয় নিরাপত্তা (রাষ্ট্রীয় হুমকি) আইনটি' দ্রুত পাস করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় এই নিষেধাজ্ঞার খসড়া বিধিমালা সংসদে পেশ করা হচ্ছে। নতুন এই আইনের ফলে নিষিদ্ধ এসব গোষ্ঠীর পক্ষে অগ্নিসংযোগসহ যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি প্রসিকিউটরদের জন্য মামলা গঠন আরও সহজ হবে, কারণ এখন থেকে প্রতিটি মামলায় বিদেশি শক্তির সরাসরি যোগসূত্র প্রমাণের বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসি বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার সক্রিয় কর্মী নিয়ে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় অঙ্গে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই গোষ্ঠীকে বিদেশে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করে আসছে। ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর নৃশংস দমন অভিযানের খবর প্রকাশের পর, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নও সংস্থাটিকে তাদের সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করে। প্রক্সি গোষ্ঠীর ব্যবহার এবং রাষ্ট্র-সমর্থিত আগ্রাসন বৃদ্ধির কারণেই যুক্তরাজ্য অবশেষে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল।
সূত্র: বিবিসি
বার্তা নিউজ/এমএনকে
.webp)
.webp)











