ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লুধুয়া গ্রামের মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা। তার পিতা মৃত নোয়াব আলী।
মালেক জানান, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকায় আগে তার জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়নি। দেশে ফিরে প্রায় দুই মাস আগে এনআইডির জন্য আবেদন করেন এবং এক সপ্তাহ আগে কার্ড হাতে পান। এরপর সুজাতপুর বাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে নিজের নামে সিম তুলতে গেলে দোকানদার জানান, তার এনআইডির বিপরীতে ইতোমধ্যে ১৮টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে।
পরে চাঁদপুরে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে সিম নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রবির অধীনে দুটি, বাংলালিংকের চারটি এবং টেলিটকের অধীনে ১২টি সিম পাওয়া যায়। গ্রামীণফোনে কোনো সিম পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
মালেকের দাবি, রবির দুটি সিম বাতিল করা হয়েছে। বাংলালিংকের চারটি সিম বাতিল করতে তাকে ঢাকায় যেতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে টেলিটকের অধীনে পাওয়া ১২টি সিমের মধ্যে তিনটি বাতিল করা হয়েছে। বাকি সিমগুলো ধাপে ধাপে বাতিল করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী মালেক বলেন, ‘আমি তো একটা সিমও উঠাই নাই। এই সিমগুলো উঠাইলো কারা, কী ভালো-মন্দ কাজে ব্যবহার হচ্ছে, কিছুই জানি না। কষ্ট করে সিমগুলো বাতিল করলাম। কিন্তু ভবিষ্যতে আবার যদি ওই চক্র সিম তুলে নেয়, তখন আমি কী করব?’
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় শুধু নির্বাচন অফিসেই আঙুলের ছাপ দিয়েছেন। এর বাইরে অন্য কোথাও আঙুলের ছাপ দেননি বলে দাবি তার। তাহলে তার পরিচয়পত্রের তথ্য কিংবা আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে কীভাবে এতগুলো সিম নিবন্ধন করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এ ঘটনায় থানায় যোগাযোগ করলে তাকে নির্বাচন অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান মালেক। তার আশঙ্কা, এসব সিম ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটালে হয়রানির শিকার হতে পারেন তিনি।
একজন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে তার অজান্তে এতগুলো সিম নিবন্ধনের অভিযোগ ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও সিম নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভুক্তভোগী মালেকের দাবি, শুধু সিম বাতিল নয়, ভবিষ্যতে যেন তার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নতুন করে কোনো সিম নিবন্ধন করা না যায়, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান ডলার বলেন, ‘একজন নাগরিকের অজান্তে তার এনআইডির বিপরীতে ১৮টি সিম নিবন্ধনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও সিম নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কারা এসব সিম নিবন্ধন করেছে, তাদের শনাক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সুলতানা এলিন বলেন, ‘আমার চাকরিজীবনে এ ধরনের ঘটনা প্রথম দেখলাম। একজন ব্যক্তির আঙুলের ছাপ ছাড়া কীভাবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এতগুলো সিম নিবন্ধন করা সম্ভব, তা আমার বোধগম্য নয়। তবে আমাদের অফিসের সার্ভার হ্যাক করা সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি।’ তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।
চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন, ‘এটার দায়ভার আমাদের নয়। এটা দায়ভার নিতে হবে সিম কোম্পানিগুলোর।’
অন্যদিকে চাঁদপুর বিটিসিএলের সহকারী ব্যবস্থাপক হাসিব আহম্মেদ বলেন, ‘এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করি না। এটা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর বিষয়।’
তবে সিম নিবন্ধনের বিষয়টি নিয়ে বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরগুলোর কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বার্তা নিউজ/এসডব্লিউএন











