পশ্চিম তীরের এক ফিলিস্তিতি ৭১ বছর বয়সী হানি লাহরোব বলেন, ‘ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নীতি সবসময় ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বদলে ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’ অর্থাৎ ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিতেই চলেছে। আমরা আশা করছি, মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলাফলের পর এই অন্যায্য নীতিতে কিছুটা বদল আসবে।’
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিশ্ব রাজনীতিতে ফিলিস্তিন ইস্যুটি এখন এতটাই জোরালো যে, এটি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের নির্বাচনেও অন্যতম প্রধান প্রভাবক বিষয় হয়ে উঠেছে।’
অন্যান্য অনেক ফিলিস্তিনি নাগরিক মনে করছেন, কংগ্রেসে নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্য বিশ্বমঞ্চে ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা 'প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন' (পিএলও)-এর কূটনৈতিক মর্যাদা ও কার্যক্রম ফেরাতে সহায়ক হতে পারে।
এ বিষয়ে রামাল্লাহর ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ বাসিন্দা সুলেমান মালি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, পিএলও-র কূটনীতিকরা আবারও যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সুযোগ পাবেন। পূর্ববর্তী ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনি কূটনীতিকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল এবং ওয়াশিংটনে আমাদের কূটনৈতিক দপ্তরটি বন্ধ করে দিয়েছিল।’
কণ্ঠ কিছুটা আবেগপ্রবণ করে তিনি এপি-কে বলেন, ‘আমরা তো সাধারণ মানুষ, আমরা কেবল শান্তিতে বেঁচে থাকতে চাই।’
সাধারণ ফিলিস্তিনিদের এই আশা একেবারে ভিত্তিহীন নয়, বরং মার্কিন ভোটারদের মনোভাবের মধ্যেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এপির করা এক ভোটার জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ বা 'হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস' নির্বাচনে যারা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৭ জন ভোটারই মনে করেন, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সমর্থন ‘অতিরিক্ত মাত্রায় বেশি বা অতিমাত্রায় শক্তিশালী’।
ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের একাংশের এই পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি ও নতুন কংগ্রেসের হাত ধরে রামাল্লাহ ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার স্থবির কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন কোনো মোড় আসবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
বার্তা নিউজ/এসডব্লিউএন











