শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফিফা জানায়, ক্যাসেলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ধারাবাহিক স্বার্থের সংঘাত এবং ফিফা ও নিজ দেশের ফুটবল ফেডারেশনের তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
অন্যদিকে, মালদ্বীপের সাবেক ফুটবল প্রধান জালিলকে ফিফার কোভিড-১৯ রিলিফ প্ল্যানের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের দায়ে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২০ সালে সদস্য দেশগুলোকে সহায়তার জন্য প্রায় ১৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত অনুদান ও ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ফিফা।
মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ফিফার প্রায় ১২ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগে চলতি বছর জালিলকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থটি স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল, তবে অভিযোগ রয়েছে এর একটি অংশ দিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট কেনা হয়েছিল।
এদিকে ক্যাসেল এবং মন্টসেরাট ফুটবল সংস্থার দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক ট্যান্ডিকা হিউজ গত এপ্রিলে একটি আদালতে কর ফাঁকির অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
ক্যাসেল ও হিউজ এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। ২০১১ সালে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল কর্মকর্তাদের ৪০ হাজার ডলার করে নগদ অর্থ দেওয়ার একটি বহুল আলোচিত ঘুষ কেলেঙ্কারিতে তাদের বিরুদ্ধে ফিফার তৎকালীন নৈতিকতা কমিটি ব্যবস্থা নেয়। ওই অর্থ কাতারের মোহাম্মদ বিন হাম্মামের ফিফা সভাপতি নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। সে নির্বাচনে তিনি সেপ ব্লাটারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করেছিলেন।
অতীতের শাস্তি ও বিতর্ক সত্ত্বেও ক্যাসেল ও হিউজ দীর্ঘদিন মন্টসেরাটের ফুটবল প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে দেশটির ফুটবল সংস্থা ফিফার বিশ্বকাপ-আয় থেকে বছরে কমপক্ষে ২০ লাখ ডলার পাওয়ার অধিকারী।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফিফা মন্টসেরাট ফুটবল সংস্থার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা দল নিয়োগ করে। সে সময় ফিফা জানায়, সেখানে “ব্যতিক্রমী সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থা” তৈরি হয়েছিল।
হিউজকে অনিয়মিত লেনদেন থেকে সুবিধা নেওয়া ও তা বাস্তবায়নে সহায়তা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তহবিলের অপব্যবহারের দায়ে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা।
ক্যাসেলের বিরুদ্ধে ফুটবল ফেডারেশনের কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার মতো আচরণের অভিযোগও ছিল। তাকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে, যা প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।
হিউজকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। আর জালিলকেও ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা দিয়েছে ফিফা।
জালিলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় এসেছে তাকে সাময়িকভাবে ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার দুই বছরেরও বেশি সময় পর।
মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকেও ১০ বছরের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাকে ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ফিফার তহবিল অপব্যবহারে সহায়তা, অনিয়ম গোপন করা, জাল নথি ব্যবহার এবং নৈতিকতা তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ ছিল।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত বছর মালদ্বীপ সফর করেন। সে সময় তিনি দেশটির ফুটবল অঙ্গনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সংকট ও চ্যালেঞ্জের কথাও স্বীকার করেন।
ক্যাসেল ও জালিল দুজনই ২০১৭ সালে বাহরাইনে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে নিজ নিজ দেশের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইনফান্তিনো কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, যারা ফুটবলকে ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চায় কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তাদের ফুটবল থেকে সরে যেতে হবে।
বার্তা নিউজ/ আরএফই












