শিক্ষার্থীদের শরৎকালীন ছুটির পর গত ২ ও ৩ নভেম্বরের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) তাদের আন্দোলন আরও সংহত রূপ নেয়। এদিন প্যারিসের কোয়ার্তিয়ে লাতাঁসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, তুলুজ, মার্সেই ও বোর্দোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল ও প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের শিক্ষা সংস্কারের আশ্বাসকে 'কালক্ষেপণ' আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং আগামীকালের ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবারের সর্বাত্মক ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে পরিবহন ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে সংস্থা এসএনসিএফ এবং প্যারিস পরিবহন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, দূরপাল্লার ট্রেন, আঞ্চলিক রেল ও প্যারিসের বিভিন্ন লাইনে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। প্রভাব পড়তে পারে ফ্লাইট চলাচলেও। এছাড়া বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ধর্মঘটে অংশ নেওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবরুদ্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গেছে, প্যারিস, লিওঁ, মার্সেই ও তুলুজসহ ফ্রান্সের ১২৫টিরও বেশি শহরের প্রায় ১৬৭টি স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ফলে প্রধান শহরগুলোর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে ফরাসি পুলিশ প্রশাসন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্যারিসসহ বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার অতিরিক্ত পুলিশ ও জরুরি দাঙ্গা দমন বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকায় সংঘাত ও অগ্নিসংযোগ রোধে ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালানো হচ্ছে। কিছু স্পর্শকাতর রুটে মিছিল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অবৈধ জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যেকোনো ধরনের গোলযোগ বা নাশকতার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে নাশকতার অভিযোগে কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের এই যৌথ ধর্মঘট ফরাসি প্রশাসনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর সবার।
বার্তা নিউজ/এমকেএ













