একই সময়ে বিমানবন্দরের আকাশে একটি ডিএইচএল কার্গো বিমানের সঙ্গে অজ্ঞাত একটি বস্তুর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে বর্তমানে ড্রেসডেন প্রসিকিউটর অফিসের সন্ত্রাস দমন দল ও স্যাক্সনি রাজ্য পুলিশ যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বুধবার রাতে লাইপজিগ বিমানবন্দরের দক্ষিণ রানওয়ের কাছে কার্গো অপারেশন জোনের নিরাপত্তা এলাকায় বিমানবন্দর কর্মীরা বিস্ফোরক ডিভাইস বহনকারী কোয়াডকপ্টারটি দেখতে পান। ড্রোনটি ইউক্রেনের একটি আন্তোনভ কার্গো বিমানের কাছাকাছি পাওয়া গেছে।
ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এই সময়ে অবতরণের চেষ্টা করা একটি ডিএইচএল কার্গো বিমান অজ্ঞাত একটি বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা খায়, যা পরবর্তীতে হ্যানোভারে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানটিতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও ক্রু বা যাত্রীদের কোনো ক্ষতি হয়নি। এই ঘটনার কারণে মায়োর্কা থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বিমানসহ বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের পথ পরিবর্তন করা হয়। দুই ঘণ্টা পর বিমানবন্দরের উত্তর অংশে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলেও দক্ষিণের রানওয়েটি বন্ধ রাখা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ড্রোনটিতে ব্যবহৃত বিস্ফোরকটি সেমটেক্সের প্রধান উপাদান বা পিইটিএন হতে পারে। পূর্ব জার্মানির এই বিমানবন্দরটি জার্মান সশস্ত্র বাহিনী ও ন্যাটো মিত্রদের সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের একটি প্রধান কেন্দ্র এবং ইউক্রেনের আন্তোনভ এয়ারলাইন্সের ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
এই ঘটনার পেছনে রাশিয়ার কোনো হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জার্মানিতে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলেক্সি মাকিয়েভ সরাসরি মস্কোকে দায়ী করে বলেছেন, ‘রাশিয়া ছাড়া আর কে হতে পারে?’ অন্যদিকে, জার্মান রাজনৈতিক মহল থেকেও এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়েছে। বিরোধী গ্রিন পার্টির গোয়েন্দা তদারকি বিষয়ক মুখপাত্র কনস্টানটিন ভন নটজ বলেছেন, এটি প্রমাণিত হলে তা জার্মানির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে গণ্য হবে।
ইউরোপীয় বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে সম্প্রতি সন্দেহজনক ড্রোন উড্ডয়ন এবং অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রমের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জার্মান কর্তৃপক্ষ ও ন্যাটো যৌথভাবে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
সূত্র: আনাদোলু
বার্তা নিউজ/এমএনকে








-new.00_00_01_24.Still001.webp)

