চলতি বছরের ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে স্কালোনির চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে শিরোপা হারানোর পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তিনি। নিউ জার্সিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অশ্রুসিক্ত চোখে স্কালোনি বলেছিলেন, ‘আমি চুক্তির মেয়াদ পূরণ করব, এরপর দেখব। সত্যি বলতে, আমার একটু ভাবার প্রয়োজন আছে। কারণ, জানি না এত বড় কিছু আবার করতে পারব কি না।’
তবে এএফএর অন্দরমহলের ধারণা, সেই মুহূর্তের আবেগ থেকেই এমন মন্তব্য করেছিলেন স্কালোনি। তাই ভবিষ্যতেও তাকে প্রধান কোচ হিসেবে ধরে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী আর্জেন্টিনার ফুটবল কর্তারা। ২০২৭ সালেও ‘গ্রিংগো’কে জাতীয় দলের ডাগআউটে দেখতে চান তারা।
স্কালোনিকে ধরে রাখার আলোচনা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক যোগাযোগও হয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোচের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপরও স্কালোনির ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এএফএর। আর্জেন্টিনার ইতিহাসের অন্যতম সফল এই প্রকল্পের দায়িত্বে তাকে রাখতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও প্রস্তুত সংস্থাটি।
নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে অর্থ কোনো বাধা হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। খেলোয়াড় ও জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বকেয়া নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনও ভিত্তিহীন। বিশ্বকাপের শেষ ধাপে ওঠার বোনাস টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার ১৮০ দিন পর দেওয়ার নিয়ম থাকায় এখনই সেটি পরিশোধের সুযোগ নেই।
তবে স্কালোনির দীর্ঘদিনের সহকারী ওয়াল্টার স্যামুয়েল আর জাতীয় দলের সঙ্গে থাকছেন না। নিজের প্রধান কোচের ক্যারিয়ার শুরু করতে আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব ছেড়েছেন তিনি।
মাঠের পরিকল্পনার দিক থেকেও স্কালোনিকে ধরে রাখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। লিওনেল মেসির শূন্যতা আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন অনুভব করবে এটি প্রায় নিশ্চিত। তবে বর্তমান দলের সামর্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা স্কালোনির চেয়ে ভালো আর কেউ জানেন না।
জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে শুরু করেছেন একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। তাদের সঙ্গে রয়েছেন নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রতিষ্ঠিত তারকারাও। ক্রিশ্চিয়ান ‘কুটি’ রোমেরো, এনজো ফার্নান্দেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ সেই তালিকায় আছেন। তাদের মধ্যে রোমেরোকেই আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, স্কালোনির অধীনে ২০২৭ সালের আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ দেখছে এএফএ।
বার্তা নিউজ/ আরএফই












