গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে এক বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এতে নৃত্যাঞ্চলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কলাকুশলীদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের দুই পরিচালক, বাংলাদেশের বরেণ্য নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যপরিচালক শামীম আরা নীপা এবং শিবলী মোহাম্মদ অংশগ্রহণ করেন। র্যালি শেষে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে তাঁরা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের ব্যতিক্রমধর্মী নৃত্যানুষ্ঠান ‘ছড়ায় ছন্দে নৃত্যমালা’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তাঁর সাথে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন স্টালিন, বরেণ্য নৃত্যশিল্পী আমানুল হক, কাজল ইব্রাহিম, লুবনা মারিয়ম, ড. সোমা মুমতাজ, বেলায়েত হোসেন খান ও আনিসুল ইসলাম হিরু এবং নৃত্যাঞ্চলের দুই পরিচালক শামীম আরা নীপা ও শিবলী মোহাম্মদ নূপুর বেঁধে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। শিশুতোষ ছড়া ও শিক্ষণীয় বিষয়কে উপজীব্য করে নির্মিত এই পরিবেশনায় নৃত্যাঞ্চলের চার শতাধিক শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানটির নৃত্য পরিচালনা করেন শামীম আরা নীপা এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন শিবলী মোহাম্মদ।
পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় একই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় রজতজয়ন্তী উৎসবের সমাপনী আয়োজন ‘নৃত্যমালিকা’। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। লোকনৃত্য, সৃজনশীল ও ধ্রুপদি নৃত্যের সমন্বয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নৃত্যাঞ্চলের সিনিয়র শিল্পীদের পাশাপাশি তিন শতাধিক শিল্পী অংশগ্রহণ করেন। সমাপনী আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৃত্যজুটি শামীম আরা নীপা ও শিবলী মোহাম্মদের বিশেষ নৃত্য পরিবেশনা। দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলায় তাঁদের নেতৃত্বে নৃত্যাঞ্চল দেশের নৃত্যচর্চায় নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে। সমাপনী দিনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনের দর্শকসারি দেশের বরেণ্য নৃত্যশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পানুরাগীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
রজতজয়ন্তী উৎসব উপলক্ষে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনের লবিতে প্রদর্শিত হয় নৃত্যাঞ্চলের ২৫ বছরের পথচলার এক বিশেষ প্রদর্শনী। এতে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নৃত্যাঞ্চলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, পরিবেশনা, অর্জন ও স্মরণীয় মুহূর্তের আলোকচিত্র এবং বিভিন্ন স্মারক তুলে ধরা হয়। তিন দিনব্যাপী এই রজতজয়ন্তী উৎসবের মিডিয়া পার্টনার ছিল টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টেলিভিশন এবং সহযোগিতায় ছিল শাহ সিমেন্ট।
বার্তা নিউজ/আরএসএল

-674c8e0a316a3-(1).webp)












