ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকর্মীরা কীভাবে নির্বিঘ্নে চাকরি করছেন এমন অনুভূতি থেকে তিনি সহকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রধান কার্যালয়ে বেনামি অভিযোগ পাঠাতেন। অত্যন্ত গোপনে তৈরি করা এসব ভুয়া অভিযোগে তিনি উপপরিচালক রণজিৎ কুমার থেকে শুরু করে সহকারী পরিচালক বুলু মিয়া, নুরুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন ও আনিসুর রহমানের মতো কাউকেই বাদ দেননি। মূল বয়ান হুবহু এক রেখে শুধু নাম পাল্টে তিনি দাবি করতেন, এসব কর্মকর্তা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে মাসে ৩০-৫০ লাখ টাকা মাসোহারা নেন। দিনের পর দিন এমন বানোয়াট অভিযোগ পাঠিয়ে তিনি সহকর্মীদের চরম মানসিক হয়রানি করতেন।
তবে সবগুলো অভিযোগপত্রের ভাষা ও ধরনে মিল থাকায় দুদকের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দাদের সন্দেহ হয়। পরে সারোয়ার হোসেনের দাপ্তরিক কম্পিউটার ও পেনড্রাইভ থেকে ওই অভিযোগের ড্রাফটগুলো উদ্ধার করা হলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে। দুদকের তদন্তে দেখা যায়, তার ডিজিটাল ডিভাইস থেকেই ওই বেনামি ও মিথ্যা অভিযোগপত্রগুলো তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তা কমিশনের বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাকে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮’ এর ২(ক)(৪) বিধি ও ৪৩(১) বিধি অনুযায়ী সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তবে এ সব অভিযোগের বিষয়ে রাজু মো. সারোয়ার হোসেনের সঙ্গে ফোনে অনেকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বার্তা নিউজ/এসভিএন













