এই নতুন আদেশের আওতায় রয়েছে ইউক্রেনীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্কাইফলের তৈরি 'শ্রাইক' ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ (এফপিভি) ড্রোন। এই ড্রোনগুলোতে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অটেরিয়নের অত্যাধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে ড্রোনগুলো উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলমান লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
অটেরিয়নের সিইও লরেঞ্জ মায়ার চুক্তির আকার সম্পর্কে নিশ্চিত করে জানান, প্রায় ৯০ মিলিয়ন ইউরো বা ১০৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই প্রকল্পে একটি ইউরোপীয় দেশ অর্থায়ন করেছে।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে বেশ কিছু ড্রোন ইউক্রেন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ড্রোনগুলো চলতি বছরের মধ্যেই সরবরাহ করা হবে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্কাইফল চুক্তিতে জার্মানির সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করলেও বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে, অভিযানগত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে জার্মানি ও ইউক্রেন উভয়েরই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে ব্যবহৃত স্বল্পমূল্যের শ্রাইক ড্রোনটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের সংস্থা স্কাইকাটারের সাথে যৌথভাবে স্কাইফলের তৈরি শ্রাইক ১০-এফ সংস্করণটি সম্প্রতি পেন্টাগন আয়োজিত ১.১ বিলিয়ন ডলারের একটি ড্রোন প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।
লরেঞ্জ মায়ার জানান, বিভিন্ন পশ্চিমা সরকারের অর্থায়ন এবং হার্ডওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অটেরিয়ন এ বছর ইউক্রেনকে মোট ১ লক্ষ ড্রোন সরবরাহে সহায়তা করছে। এর মধ্যে পেন্টাগনের ৫০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় ৩৩ হাজার ড্রোন ইতোমধ্যেই কিয়েভে পৌঁছেছে।
এছাড়াও, গত মাসে ব্রিটেন তাদের ৭৫২ মিলিয়ন পাউন্ডের সামরিক সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে চলতি বছর ইউক্রেনকে দেড় লক্ষ ড্রোন সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর এসব উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তি ক্রমশ অপরিহার্য হয়ে উঠছে।
সূত্র: রয়টার্স
বার্তা নিউজ/এমএনকে











