তিনি জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে সংঘাত প্রশমনের বর্তমান পর্বের অবসান ঘটেছে এবং আঞ্চলিক পরাশক্তি সৌদি আরবকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। হুথিদের এই হুমকির ফলে দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ঘটনার পরপরই ইয়েমেনের সাধারণ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপী সমস্ত বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও কয়েক ঘণ্টা পর তা আবার খুলে দেওয়া হয়।
সৌদি সরকারের যোগাযোগ দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মূলত আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দিতেই সানা বিমানবন্দরের রানওয়েতে এই হামলা চালানো হয়েছিল। বাধা পেয়ে বিমানটি শেষ পর্যন্ত হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদাইদাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে সোমবার ইয়েমেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানি বিমান চলাচল বন্ধে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী যেকোনো শত্রু বিমানের বিরুদ্ধে তারা ‘সকল সম্ভাব্য উপায়ে’ জবাব দেবেন বলেও তিনি ইরানকে দায়ী করে হুঁশিয়ারি দেন।
এই উত্তেজনার মাঝেই ইয়েমেন সরকারের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার বিন মুতাহার আল-এরিয়ান অভিযোগ করেছেন, হুথিরা সানা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (ICRC) একটি বিমান আটক করে এর পাইলট ও সহ-পাইলটকে জিম্মি করে রেখেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে আইসিআরসি-র মুখপাত্র হাশেম ওসেইরান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, তাদের সকল কর্মী এবং ওই বিমানের ক্রুরা সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং তাদের খোঁজ পাওয়া গেছে। তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। রানওয়েতে হামলা এবং বিমান আটকের এই দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আইসিআরসি-র মধ্যস্থতায় হুথি এবং ইয়েমেন সরকারের মধ্যে একটি বন্দী বিনিময় চুক্তি ভেস্তে যাওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এমনিতেই বাড়ছিল। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরে হুথিদের আক্রমণ সত্ত্বেও ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ইয়েমেনে তুলনামূলক শান্তি বজায় রেখেছিল; এছাড়া সৌদি আরবও ইরান সংঘাত থেকে নিজেকে তুলনামূলকভাবে দূরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু সানা বিমানবন্দরে এই রোববারের হামলা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির জেরে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে পুনরায় সরাসরি সংঘাত শুরু হলে, তা ইয়েমেনের এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধকে আবারও ভয়াবহ রূপ দিতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
বার্তা নিউজ/এমএনকে











