শতবর্ষীদের মধ্যে ৮৮ শতাংশই নারী। দেশটির সবচেয়ে বয়স্ক নারী কিয়োটোর ফুয়ো কিশিমোতো, তার বয়স ১১৪ বছর। আর সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ কুমামোতোর হিকারু কাতো, তার বয়স ১১২ বছর। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিচিরো উয়েনো শতবর্ষীর সংখ্যা বাড়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক মানুষ দীর্ঘ, সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন করছেন-এটি আনন্দের বিষয়। প্রবীণদের সহায়তায় সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথাও জানান তিনি।
১৯৬৩ সালে জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫৩ জন। এরপর প্রতি বছরই এ সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা দেশটির মানুষের দীর্ঘায়ুর পেছনে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, সক্রিয় জীবনযাপন এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখেন।
বিশেষ করে ওকিনাওয়া অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘায়ুর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। সেখানকার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যতালিকায় মাছ, শাকসবজি ও ভাতের মতো পুষ্টিকর খাবারের প্রাধান্য রয়েছে। পশ্চিমা অনেক খাদ্যাভ্যাসের তুলনায় এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটও কম।
জাপানে ১০০ বছর বয়স পূর্ণ করলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অভিনন্দনপত্র ও একটি স্মারক উপহার দেওয়া হয়। তবে শতবর্ষীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ২০১৬ সাল থেকে আগে ব্যবহৃত খাঁটি রুপার কাপের পরিবর্তে রুপার প্রলেপযুক্ত কাপ দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘায়ুর পাশাপাশি জাপান বড় ধরনের জনসংখ্যাগত সংকটের মুখেও রয়েছে। দেশটিতে জন্মহার ক্রমাগত কমছে এবং জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালে দেশটির মোট প্রজনন হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ দশমিক ১৪-এ নেমে আসে, যেখানে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ২ দশমিক ১ হার প্রয়োজন।
সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০০৮ সালে জাপানের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছেছিল। ২০৭০ সালের মধ্যে তা কমে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখে দাঁড়াতে পারে।
জনসংখ্যা কমার পেছনে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার প্রবণতা হ্রাসও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সরকারি গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী অবিবাহিতদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভবিষ্যতে বিয়ে করতে আগ্রহী নয়। ফলে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘায়ু দেশ জাপান একই সঙ্গে জনসংখ্যা সংকোচনের চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হচ্ছে।
বার্তা নিউজ/ আরএফই














