এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত ইরানের বন্দরগুলোতে ফের অবরোধ আরোপ করবেন। সংকীর্ণ এই নৌপথটি উন্মুক্ত রাখার ব্যয়ভার মেটাতে সেখান দিয়ে চলাচলকারী সব পণ্যবাহী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক বসানোরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালানোর পর তেহরান জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বন্ধ করতে শুরু করে। এর জবাবে ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোর সঙ্গে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। গত জুনে যুদ্ধ বন্ধে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি হলে এই বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়। তবে সম্প্রতি লড়াইয়ের নতুন করে বিস্তারের পর ট্রাম্প আবারও সেই নিষেধাজ্ঞাগুলো ফিরিয়ে আনার হুমকি দিয়েছেন।
সাও পাওলো রাজ্যে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে লুলা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইট করে জানিয়েছেন যে তিনি হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করবেন। কিন্তু প্রণালীটি থেকে বের হওয়া প্রতিটি জাহাজের জন্য তেলের মালিকদের তাকে ২০ শতাংশ অর্থ দিতে হবে। একসময় এগুলোকেই জলদস্যুতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।’
লুলা আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বৃহৎ রাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে জলদস্যুতার বিরুদ্ধে লড়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি, সেই দেশ এখন নিজে জলদস্যু হতে পারে না।’
তিনি সতর্ক করে জানান, এই সংঘাতের প্রভাবে ব্রাজিলে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি চাল, শিম, টমেটো ও পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম মারাত্মকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
ব্রাজিলের ৮০ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান বামপন্থী নেতা আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট পদে লড়ছেন। ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ার পর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে লুলার সরকার বেশ কয়েকটি অস্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
লুলা জানিয়েছেন, গত মার্চ মাসে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর ১২ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই খাত থেকে পাওয়া রাজস্ব ব্যবহার করেই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সূত্র: আরব নিউজ
বার্তা নিউজ/এমএনকে


.webp)
.webp)








