সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা ও তৎকালীন বরিশাল এলজিইডির প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম তার স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে বরিশাল নগরীর সদর রোডের হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে নিয়ে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। নিহত শোভার ছোট বোন রুমা আক্তারের সঙ্গে জহিরুলের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি স্ত্রী জেনে যাওয়ার কারণেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের দিনই নিহতের আরেক বোন নিলুফা আইরিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ জহিরুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি জহিরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, হোটেল কার্যক্রমে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে দেওয়া এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান। তিনি জানান, আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যে কারণে তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আর আপিল করবেন না।
বার্তা নিউজ/আরএসএল












