আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল দীর্ঘ ২১ বছর আগে, ২০০৫ সালের নভেম্বরে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে। সেই ম্যাচে মাইকেল ওয়েনের শেষ মুহূর্তের জোড়া গোলে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের সবশেষ দেখা হয়েছিল ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে।
ফুটবল বিশ্বে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বৈরিতা একে অনন্য করে তুলেছে। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে ফাঁকি দিয়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ এবং এর চার মিনিট পর শতাব্দীর সেরা গোলটি এই দ্বৈরথের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। সেই ম্যাচে গ্যারি লিনেকার ইংল্যান্ডের হয়ে এক গোল শোধ করলেও আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছিল।
১২ বছর পর ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে ডিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মেরে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড পাওয়া এবং টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের হারের ঘটনাও ব্যাপক নাটকিয়তার জন্ম দেয়। হারের দায় বেকহ্যামের ওপর চাপিয়ে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছিল। তবে ২০০২ বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে জিতিয়ে সেই অপমানের প্রতিশোধ নিয়েছিলেন বেকহ্যাম।
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর এবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে একে অপরের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দল দুটি। কাতার বিশ্বকাপের পর টানা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে খেলছে আর্জেন্টিনা। এটি লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় টানা দ্বিতীয় এবং ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফাইনাল খেলার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবেন তিনি। অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালের পর দীর্ঘ ৬০ বছরের শিরোপাখরা ঘোচানোর অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। ২০১৮ সালে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে তাদের স্বপ্ন ভেঙেছিল।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মহারণ নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর বিবিসির ধারাভাষ্যকার ক্রিস সাটন বলেন, আটলান্টায় ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হচ্ছে এবং এটি চমৎকার ও রোমাঞ্চকর এক লড়াই হতে যাচ্ছে। ৮৬-তে ম্যারাডোনার হাত, ৯৮-তে বেকহ্যামের লাল কার্ড আর ২০০২-তে বেকহ্যামের প্রতিশোধের পর এবার আটলান্টায় নতুন এক ইতিহাস লেখার অপেক্ষায় এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
বার্তা নিউজ/এফএইচআর














