১. হ্যারি কেইন
শীর্ষে রয়েছেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের তারকা হ্যারি কেইন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেছেন তিনি। তার দুর্দান্ত গোল-ফর্মে বায়ার্ন জিতেছে লিগ ও কাপ। বিশ্বকাপেও ৬ গোল করেছেন কেইন। ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডকে সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য এনে দেওয়ার পথে তার পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তাকে শীর্ষে রেখেছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
২. কিলিয়ান এমবাপ্পে
দুই নম্বরে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে দলীয়ভাবে শিরোপাহীন কেটেছে মৌসুম। বিশ্বকাপে অবশ্য ব্যক্তিগত রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন এমবাপ্পে। ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। মিরোস্লাভ ক্লোসার পর মেসিকেও ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
৩. লামিন ইয়ামাল
তিন নম্বরে রয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরে রানার্সআপ হওয়া ইয়ামাল এবার প্রথমবার পুরস্কার জয়ের অন্যতম বড় দাবিদার। ইউরো ও বিশ্বকাপ-দুই টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলে দুটিতেই শিরোপা জেতা প্রথম ২০ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড় তিনি। বিশ্বকাপের আগে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থাকলেও টুর্নামেন্টজুড়ে তার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট করেছেন। নতুন মৌসুমেও সাত ম্যাচে ৮ গোল করে দুর্দান্ত শুরু করেছেন তিনি।
৪. রদ্রি
চারে রয়েছেন স্পেনের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা রদ্রি। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে জিতেছেন গোল্ডেন বল। তবে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গত মৌসুমে তার পারফরম্যান্স ছিল তুলনামূলকভাবে ম্লান। চোট থেকে ফেরার পর পুরো ছন্দে ফিরতেও সময় লেগেছে। রদ্রি নিজেও বলেছেন, ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে বার্সেলোনা এখন তার চেয়ে সতীর্থ ইয়ামালকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
৫. লিওনেল মেসি
তালিকার পাঁচ নম্বরে রয়েছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ৮ গোল করে দলকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি। একপর্যায়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ছিলেন, পরে সেই রেকর্ড দখলে নেন এমবাপ্পে। ফাইনালে স্পেনের কাছে হারলেও মেসির পারফরম্যান্স ছিল আলোচনায়। ইন্টার মায়ামিকে ক্যাম্পেওনেস কাপ জেতানোর পর স্যার ডেভিড বেকহামও তাকে সম্ভাব্য ব্যালন ডি’অরজয়ী হিসেবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়া মেসির জন্য এটি বড় সুযোগগুলোর একটি হতে পারে।
৬. আর্লিং হালান্ড
ছয় নম্বরে রয়েছেন আর্লিং হালান্ড। নরওয়েকে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছেন এই স্ট্রাইকার। সেই পথে ব্রাজিলকেও বিদায় করেছে নরওয়ে। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গত মৌসুমে ৩৮ গোল করে দলকে ঘরোয়া ডাবল জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন হালান্ড।
৭. উসমান দেম্বেলে
সাত নম্বরে রয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে। পিএসজির হয়ে লিগ ওয়ান ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পথে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। ক্লাবের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন দেম্বেলে। তবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিদায় তার সম্ভাবনায় কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। গত মৌসুমের তুলনায় এবার তার গোলের সংখ্যাও কমেছে।
৮. জুড বেলিংহাম
আট নম্বরে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের জুড বেলিংহাম। বিশ্বকাপে ৭ গোল করে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় স্থান এনে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপের আগের মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তার পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো ছিল না। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে মোট ১৩টি অবদান ছিল বেলিংহামের।
৯. মাইকেল ওলিসে
নয়ে রয়েছেন মাইকেল ওলিসে। বায়ার্ন মিউনিখ ও ফ্রান্স জাতীয় দলে নিজের জায়গা শক্ত করে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন তিনি। যদিও ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এখনো তাকে শীর্ষ সারির দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তবে পাওয়ার র্যাংকিংয়ে শীর্ষ দশে জায়গা করে নেওয়াটাই তার জন্য বড় স্বীকৃতি।
১০. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র
দশে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ক্লাবের হয়ে ৩৬ ম্যাচে ২২ গোল করেছেন। তবে এমবাপ্পের মতো ভিনিসিয়ুসও গত মৌসুমে দলকে বড় কোনো শিরোপা এনে দিতে পারেননি। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে আলো ছড়ালেও দলকে শেষ ষোলো পার করাতে পারেননি তিনি। ফলে পাওয়ার র্যাংকিংয়ে শীর্ষ দশের শেষ দিকে জায়গা হয়েছে তার।
বার্তা নিউজ/ আরএফই














