এফটির হাতে আসা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনসংক্রান্ত নথিতে ৯০টি ‘এপিইউ-এল’ লঞ্চার রপ্তানির আদেশের উল্লেখ রয়েছে। ক্রেতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে ‘কে-১০’ সাংকেতিক নামে, যা ইরানকে বোঝাতে ব্যবহার করে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। তবে লঞ্চারগুলো ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এসব লঞ্চার রাশিয়ার এমআই-২৮ আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে সংযুক্ত করা যায়। প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা সম্ভব। উড্ডয়নকালেও ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানকে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত সহায়তাও দিয়েছে মস্কো। গোপন ‘সি৪৩০এল’ প্রকল্পের আওতায় রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানিব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করেছেন। এ প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এর আগে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছিল, যা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা গভীর হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মস্কো। যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে চায় ক্রেমলিন। ফলে রাশিয়ার সহায়তা ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ালেও যুদ্ধের গতিপথ আমূল বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।
বার্তা নিউজ/এসএফএল












