জানা গেছে, ঘাটাইল পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারীর ১৭৭টি পদের বিপরীতে ১ হাজার ২৯৯ জন এবং সুপারভাইজারের ১৮টি পদের বিপরীতে ১৬৭ জন প্রার্থী আবেদন করেন। ২৯ জুলাই (বুধবার) উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে দিনব্যাপী প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করার জন্য একটি চক্র কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে নিয়োগ পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ইউএনও'র ডাকবাংলোতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান পাপিয়া এবং একজন বিএনপি নেতা পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর পরিবর্তন করার জন্য তাদের ওপর তীব্র চাপ প্রয়োগ করেন।
এদিকে, সরকারি পরিপত্রে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে সব ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হলেও ঘাটাইলে তা মানা হয়নি। সরকারের নির্দেশনা সম্পূর্ণ অমান্য করে নিয়োগ বোর্ডে বিএনপি নেত্রী ও সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পাপিয়া এবং বিএনপি নেতা ও বর্তমান বিআরডিবি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদকে সদস্য করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, ইউএনও স্যারের সুপারিশক্রমে ডাকবাংলোতে বসে পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ক্রমবিন্যাস করা হচ্ছে। ইউএনও অফিসে অনেক লোকজন থাকায় গোপনীয়তার স্বার্থে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাউকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
নিয়োগ কমিটির সদস্য ও বিএনপি নেত্রী পাপিয়া জানান, কোনো অভিযোগ যেন না ওঠে সেজন্য ইউএনও তাকে কমিটিতে রেখেছেন। সময়ের অভাবে তারা সবাই মিলে ডাকবাংলোতে বসে নিয়োগের কাজ করেছেন এবং এখানে স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই নিয়োগ হবে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে বিএনপি নেতা ও বর্তমান বিআরডিবি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ চাপ প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে যা যা তদারকি করা দরকার তিনি সেটিই করছেন। কাউকে চাপ প্রয়োগ করা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ এমন অভিযোগ করলে তা নাম-ঠিকানাসহ লিখিতভাবে দেওয়া উচিত।
সার্বিক বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি।
বার্তা নিউজ/আরএসএল














