নিহতরা হলেন, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মুক্তার আহমদ ওরফে কামাল (৩৭) এবং বালুখালী এলাকার আবু ছিদ্দিকের ছেলে মোহাম্মদ আকবর (৩২)। আহতরা হলেন হোয়াইক্যংয়ের তুলাতলী এলাকার ইলিয়াস (৪০) ও সিএনজিচালক আলী আহমদ (৩০)। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মাদকের চালানের এক লাখ পিস ইয়াবার মধ্যে ৩০ হাজার পিস আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে ওই চারজনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের জেরে হোয়াইক্যং এলাকার মিজান সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে চারজনকে হ্নীলার মাদক কারবারি আবছারের সশস্ত্র গ্রুপের হাতে তুলে দেয়। এরপর তাদের পাহাড়ে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়।
বুধবার সকালে পানখালী বন বিট অফিসের পাশ থেকে মুক্তার আহমদের মরদেহ এবং আহত অবস্থায় ইলিয়াস ও আলী আহমদকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে দুপুর ১টার দিকে হ্নীলার বড় লেচুয়াপ্রাং এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে নিখোঁজ মোহাম্মদ আকবরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আকবরের ভাই মোহাম্মদ সৈয়দ আকবর অভিযোগ করে বলেন, "মাদকের চালান আত্মসাতের অজুহাতে মিজান ও আবছারের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট আমার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।"
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী জানান, ইয়াবা আত্মসাৎকে কেন্দ্র করেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি আরও জানান, মাদক কারবারিদের দমনে শিগগিরই রঙ্গিখালী এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। ক্যাম্প স্থাপনের পর এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলবে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের সুরতহাল শেষে মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, হ্নীলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ৫-৭টি সশস্ত্র মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার থেকে মাদকের বড় চালান এনে এসব গ্রুপ প্রায়ই সংঘাতে জড়াচ্ছে। তাদের অবৈধ অস্ত্রের মহড়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বার্তা নিউজ/এমকেএ












