বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিমের প্রতিষ্ঠানের চালক সোহেল রানা ও ম্যানেজার মজনু মিয়া বগুড়ায় ভাঙারির মালামাল বিক্রি করে পিকআপে করে মহাদেবপুর ফিরছিলেন। পথে পিকআপটি বিকল হলে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় চালক সোহেলকে হালকা এবং ম্যানেজার মজনুকে ব্যাপক মারধর করে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রথমে মহাদেবপুরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মুন্নাকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়।
পরে মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঈশ্বর লক্ষ্মীপুর গ্রামের রবিনকে (২৫) তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ। সর্বশেষ গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের চালক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই ছিনতাইয়ের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন চালক সোহেল রানা ও মুন্না। আর ছিনতাইয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করেন রবিন। তারা তিনজন মিলে গত এক সপ্তাহ ধরে এ ঘটনার পরিকল্পনা করছিলেন।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, "সড়কে ছিনতাই ও ডাকাতিসহ যেকোনো অপরাধ দমনে নওগাঁ জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"
বার্তা নিউজ/এমকেএ












