জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই অবুঝ শিশুর নাম রিজিক। সে পাইকারদী গ্রামের জহিরুল হক ও সায়েবা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। শিশুটির মা সায়েবা বেগম জানান, শিশুটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে তিনি ঘরের কাজে বাইরে গেলে বা বাথরুমে গেলে প্রায়শই সে তীব্র চিৎকারে কেঁদে উঠত। দিনের পর দিন এমন অস্বাভাবিক কান্নার কারণে তার মনে সন্দেহ জাগে।
প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য গত রবিবার (১২ জুলাই) তিনি কৌশলে মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ডিং চালু রেখে রুম থেকে বেরিয়ে যান। পরবর্তীতে ধারণকৃত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি বিছানায় ঘুমাচ্ছিল। এমন সময় তার আপন চাচি লতা বেগম রুমে ঢুকে শিশুটির পায়ে সজোরে মোচড় দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই জায়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মনমালিন্য ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই চাচি লতা বেগম এমন পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পারিবারিক চাপে শিশুটির মা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নেওয়ার কথাও জানান।
তবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এ বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবার বিষয়টি আপস-মীমাংসার কথা বললেও এমন অমানবিক ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অভিযুক্ত লতা বেগমকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার্তা নিউজ/আরএসএল













