গত বৃহস্পতিবার ( ৯ জুলাই) রাতে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। বন্যায় বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, আউশ ধানের ক্ষেত, আমনের বীজতলা, শাকসবজি, ফলের বাগান এবং মাছের পুকুর ও ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় জেলার ৬ হাজার ৪৪৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ২৮৬ হেক্টর আউশ ধান, ১৫৫ হেক্টর আমনের বীজতলা, ২৪৮ হেক্টর শাকসবজি এবং ২০ হেক্টর ফলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার কারণে সম্প্রতি সংস্কার করা হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কসহ অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, বন্যার পানিতে জেলার এক হাজারের বেশি পুকুর ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, শতাধিক পোল্ট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন গো-খাদ্য নষ্ট হয়েছে। এর প্রভাবে জেলায় দুধ ও ডিমের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
এদিকে খোয়াই, কুশিয়ারাসহ জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি ক্রমাগত কমছে। তবে পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
বার্তা নিউজ/আরপিডি













