কারখানাটির ঠিক সামনেই ২০২৩ সালে ঢাকা উত্তর সিটির একটি অস্থায়ী বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) নির্মাণ করা হয়। এসটিএসের তীব্র দুর্গন্ধের কারণে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ব্যাহত হচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার মালিকপক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ওই এসটিএসে ময়লা ফেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা পায়।
কারখানার কর্মীদের অভিযোগ, আদালতের আদেশের পর সিটি করপোরেশনের কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে কারখানার সামনের প্রবেশপথের সড়কেই ময়লা স্তূপ করতে শুরু করেন। এর ফলে কারখানায় যাতায়াত কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যদিকে এসটিএস কর্মীদের দাবি, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে এসটিএসের ভেতরে ময়লা ফেলা যাচ্ছে না বলেই তারা বাধ্য হয়ে অস্থায়ীভাবে সরকারি সড়কের ওপর ময়লা রাখছেন।
গত রবিবার সকালে কারখানার সামনের সড়কে ময়লা ফেলার সময় কারখানার এক ব্যবস্থাপক সেই দৃশ্য ভিডিও করতে গেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির সূত্রপাত হয়। পরে বিকেলে ডিএনসিসির প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শনে গেলে মূল উত্তেজনা তৈরি হয়।
কারখানার শ্রমিকদের দাবি, সেখানে কারখানার মালিককে হেনস্তা করা হচ্ছিল, যা দেখে শ্রমিকরা তাকে রক্ষা করতে বেরিয়ে আসেন। তবে ডিএনসিসির দাবি, প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই মালিকপক্ষের ‘ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা’ তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই ঘটনায় ডিএনসিসির পক্ষ থেকে উত্তরখান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ইতিমধ্যে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
হামলার ঘটনার পর রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে সিটি করপোরেশনের খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) দিয়ে কারখানার সামনের ওই রাস্তাটি কেটে দেওয়া হয়। কারখানার কর্মীদের মতে, মালিকপক্ষকে ভোগান্তিতে ফেলতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটি করা হয়েছে।
তবে ঢাকা উত্তর সিটির অঞ্চল-৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা জানান, ওই স্থানে পানিনিষ্কাশনের জন্য একটি নালা নির্মাণের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন ছিল, যা কারখানা কর্তৃপক্ষের বাধার কারণে করা যাচ্ছিল না। রবিবারের ঘটনার পর কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা নালা নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সড়কটি মেরামত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এ ধরনের দ্বন্দ্বের বিষয়ে নগর-পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান জানান, অপরিকল্পিতভাবে এবং প্রভাব ও উপযোগিতা যাচাই না করেই এসটিএসগুলো স্থাপন করায় এমন জনভোগান্তি ও স্থানীয় বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে। তার মতে, রাজউকের মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে, প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় উপযুক্ত স্থানে এসব বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র স্থাপন করা উচিত।
বার্তা নিউজ/পিআরএএন














