রক্তাক্ত জুলাইয়ের ৩৫ তারিখ। গুলি, টিয়ারসেল, সাউন্ড গ্রেনেডের মুহুর্মুহু শব্দে রাজধানী ঢাকা পরিণত হয় আতঙ্কের জনপদে। এতো রক্ত, এতো মৃত্যুর মিছিল স্বাধীন বাংলাদেশ এর আগে দেখেনি। সরকার পতনের এক দফা দাবিতে চলছে অসহযোগ আন্দোলন। শেখ হাসিনা সরকারের পতন তখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তবে শেষ রক্ষায় মরিয়া প্রতিপক্ষ। বর্বর হামলা, গুলিতে মৃত্যু হয় শতাধিক। আর আহত হন হাজার হাজার।
এদিন, আদালতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি না করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ হয়। ঘোষণা আসে কঠোর কারফিউর। সকাল থেকেই যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, উত্তরা, বাড্ডা, শাহবাগ, বাংলামোটর ও ধানমন্ডিসহ রাজধানী পরিণত হয় সংঘর্ষের জনপদে। এসময় ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা বিচ্ছিন্নভাবে ভাঙচুর চালায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায়। হাসপাতালগুলোতে তখন বইছে রক্তের স্রোত। বিক্ষুব্ধদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসক-নার্সদের তখন নাভিশ্বাস অবস্থা।
আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সমন্বয়করা ঘোষণা দেন, ৬ নয়, মার্চ টু ঢাকা হবে ৫ই আগস্ট।
তখন ক্ষমতার টেকানোর শেষ চেষ্টায় সব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী আর আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন পুরো পরিস্থিতি চলে গেছে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পেটোয়াবাহিনীর মারমুখি ভূমিকাও রাজপথ থেকে সরাতে পারছে না আন্দোলনকারীদের। এদিন একাদশ শ্রেণির ছাত্র গোলাম নাফিসকে ফার্মগেট এলাকায় গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। রিকশায় রক্তাক্ত দেহ নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে ছুটে চলা ছবি ভাইরাল হলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে নেটিজেনরা।
বন্ধ করে দেয়া হয় ইন্টারনেট, জারি হয় কারফিউ, ঘোষণা হয় তিন দিনের সাধারণ ছুটি। অন্যদিকে ঢাকা মেডিক্যাল থেকে নিহতদের মরদেহ নিয়ে শহীদ মিনারে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর। যার বিপরীতে আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে মাঠে থাকার ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।
এদিন, সশস্ত্র বাহিনীকে ছাত্র-জনতার বিপরীতে না দাড়ানোর আহ্বান জানান সাবেক সেনা কর্মকর্তারা। পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর 'মার্চ টু ঢাকা'র ঘোষণাই হয়ে ওঠে ইতিহাস বদলে দেয়া এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
বার্তা নিউজ/এফএইচআর













