প্যারিস, মার্সেই, তুলুজসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দেশটির প্রায় ৪১টি হাইস্কুল অবরুদ্ধ ছিল। মার্সেই শহরের লিসে মঁগ্রাঁ স্কুলের প্রবেশপথে আবর্জনার বড় কনটেইনার রেখে অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। প্যারিস ও তার আশপাশের এলাকাতেও শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে এই আন্দোলনে অংশ নেয়।
তবে ৩ নভেম্বর আন্দোলনের ব্যাপ্তি নিয়ে সরকারি হিসাব ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর বক্তব্যের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক দেখা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় ফ্রান্সের প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি হাইস্কুলের মধ্যে ৪৮টি অবরুদ্ধ ছিল। অন্যদিকে শিক্ষার্থী সংগঠন ‘ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসিয়েন’ দাবি করেছে, অবরুদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৫০০।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও এই আন্দোলনের প্রভাব স্পষ্ট। শিক্ষার্থী সংগঠন ‘ইউনিয়ন এতুদিয়ঁতে’-এর দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ ছিল এবং দেশের প্রায় অর্ধেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে। প্যারিসের দোফিন পিএসএল বিশ্ববিদ্যালয় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া সরবন নুভেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেশন ক্যাম্পাসও মঙ্গলবার বন্ধ রাখা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ সমস্যা বিদ্যমান। অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অতিরিক্ত এবং স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ‘পারকুরসুপ’ ব্যবস্থার সংস্কার, উচ্চশিক্ষায় আসন বৃদ্ধি এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও জানাচ্ছে তারা।
আন্দোলন প্রশমিত করতে ফরাসি সরকার ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ, শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা এবং উচ্চশিক্ষায় নতুন আসন তৈরির পরিকল্পনা।
তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছে, এসব ঘোষণা তাদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। তাদের দাবি, শিক্ষাক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং দ্রুত বাস্তবসম্মত সংস্কার আনতে হবে।
এদিকে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্যারিসে শিক্ষার্থীদের বড় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় প্লাস দু পাঁতেওঁ থেকে মেদেফের সদর দপ্তর পর্যন্ত মিছিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন এই রুটে মিছিলের অনুমতি দেয়নি।
বিকল্প হিসেবে পুলিশ নতুন একটি রুটের প্রস্তাব দিলেও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো পুলিশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের ধারণা, প্যারিসের এই সমাবেশে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি আগামী ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ফ্রান্সে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন জাতীয় ধর্মঘট ও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বেতন বৃদ্ধি ও পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে শ্রমিকদের এই কর্মসূচির দিনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও অব্যাহত রাখার জোরালো প্রস্তুতি রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিন ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহনে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেদিকেই নজর সবার।
বার্তা নিউজ/এসভিএন





.webp)
.webp)







