তীব্র শীতের ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে গিয়ে বড় ধরণের দূর্ঘটনাও ঘটতে পারে। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে সারাদেশে একাধিক জেলায় বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়া অফিস জানায়, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা ও বরিশাল জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে শনিবার (৭ জানুয়ারি) পরবর্তী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মাঝারি থেকে তীব্র শীতের অনুভূতি থাকতে পারে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রচণ্ড শীতে সর্দি, কাশি, গলাবথ্যা, হাঁপানি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, অ্যালার্জি, বিভিন্ন চর্মরোগের প্রকোপে মানুষের ভোগান্তি চরমে। এ অবস্থায় গরম নাকি ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করবেন এ নিয়ে সংশয় থাকে।
মনে রাখতে হবে তীব্র শীতে গোসল করার মতো বীরত্বের কিছু নাই। বরং এটা নিয়ে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তীব্র শীতে গোসল নিয়ে বেশ কিছু সতর্কতার তথ্য জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে পরিচালক ডা. লেনিন চৌধুরী।
তিনি বলেন, শীতকালে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করা মোটেই স্বাস্থ্যকর কোনো বিষয় নয়। এ মৌসুমে মানব দেহের রক্তবাহী নালীগুলো কিছুটা সংকুচিত থাকে। ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে রক্তনালী আরও বেশি সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে দম আটকে যাওয়া, হাঁপ ধরা, শ্বাসের সমস্যা, ক্লান্তিভাব ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষেত্র বিশেষে হার্ট অ্যাটাকের মতো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। এতে মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে। তরুণ-যুবকদের ক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ। কিন্তু ফেলে দেওয়া যায় না। বয়স্ক, দুর্বল, রোগাক্রান্ত ও শিশুদের শীতল পানিতে গোসল করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
ডা. লেনিন বলেন, ঠাণ্ডা পানির গোসল শিশুদের জ্বর-সর্দি, নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাদের ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসল করাই শ্রেয়। পানি বেশি গরম হলেও শরীরের জন্য ক্ষতিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।














