২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান এই আগ্রাসনে গাজা উপত্যকায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩,৩৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১,৭৪,২২০ জন। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রাখায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। গাজার বিভিন্ন স্থানে এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে ও রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন, কিন্তু অব্যাহত হামলা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্য ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলো তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।
চলমান এই আগ্রাসনের ভয়াবহতার একটি মর্মান্তিক চিত্র সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'আশরাম' নামের এক শিশু শ্রেণিকক্ষে অন্য ছাত্রদের সাথে ডেস্কে বসে ক্লাস করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে ইসরায়েলি সৈন্যদের ছোড়া একটি গুলি তার কলম ধরা হাতে আঘাত হানে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, গুলিটি শিশুটির হাত ভেদ করে কব্জিতে বিদ্ধ হয়েছে এবং গুলির অগ্রভাগটি হাতের অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। কলম ধরা একটি কচি হাতে এমন ক্ষতের ঘটনা গাজার শিশুদের ওপর যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতিকে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন করে তুলে ধরেছে।
শ্রেণিকক্ষে শিশুর গুলিবিদ্ধ হওয়ার এই ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে গাজার ফিলিস্তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করা একটি বহুমুখী অপরাধ, যা জীবন ও শিক্ষার অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চলমান এই পরিকল্পিত হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একইসঙ্গে ইসরায়েলি হামলা থেকে ছাত্রছাত্রী ও বিদ্যালয়গুলোকে রক্ষা করতে এবং এই জঘন্য লঙ্ঘনগুলো বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বার্তা নিউজ/এমএনকে












