কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে শামসুল হক বিপত্নীক। তার দুই ছেলে ও চার মেয়ে। জানা যায়, কয়েক বছর আগে জমি বিক্রি করে হজ করেন তিনি এবং অবশিষ্ট নগদ অর্থ ও জমি সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দেন। কিন্তু এরপর থেকে কোনো সন্তানই তার ঠিকমতো খোঁজখবর রাখছিলেন না। গত কয়েকদিন তিনি বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন। নিজের স্বামী অসুস্থ এবং এক বোন প্রতিবন্ধী হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে মায়া বেগম বাবাকে ভাইদের বাড়িতে রেখে যান। কিন্তু ছেলে ও পুত্রবধূরা তাকে ঘরে না তুলে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছের নিচে ফেলে রাখেন।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন বৃদ্ধের সন্তানদের নিজ কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। 'পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন'-এ শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করে তিনি অবিলম্বে পিতার দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর বড় ছেলে পেশায় ফেরিওয়ালা আজিজুল হক ভুল স্বীকার করে বাবাকে নিজ ঘরে নিতে রাজি হন। আজিজুল বলেন, "ইউএনও স্যার বলার পর আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাবা আমার কাছেই থাকবেন।"
বড় ছেলের ঘরে আশ্রয় পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বৃদ্ধ শামসুল হক। তিনি জানান, ছেলের কাছে থাকতে পেরেই তিনি অনেক খুশি। এ বিষয়ে ইউএনও সাইফ-উল-আরেফীন জানান, সন্তানরা স্বেচ্ছায় ভরণ-পোষণের দায়িত্ব না নিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো।
বার্তা নিউজ/এমকেএ












.webp)
