বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি গতকাল বিদেশি ঋণের কারণে চাপ বাড়ছে আর তা পরিশোধে সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে বলে জানানোর প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা জানান মন্ত্রিসভার দুই সদস্য।
এ পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে চালু হওয়া সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মাসেতু চালুর পর থেকে দৈনিক টোল আদায় হচ্ছে সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি। তিন ধাপে এর খরচ বাড়লেও এখন সেটিকে লাভজনক প্রকল্প মনে করা হচ্ছে।
অবকাঠামো খাতে আরেক বৃহৎ প্রকল্প চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিতব্য বঙ্গবন্ধু টানেল। ২০১৯ সালে নিমার্ণ শুরু হওয়া প্রকল্পটির ব্যয়ও বাড়ানো হয়। ডিসেম্বরেই এটি চালুর কথা রয়েছে।
এমন চিত্র কিন্তু সড়ক ও পরিবহন খাতে নেয়া অন্য বৃহৎ প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে নয়। ২০টি বৃহৎ প্রকল্পের ১১টিই সড়ক ও পরিবহন খাতের। এর মধ্যে পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলী টানেল বাদে অন্য ৯টি প্রকল্পের অগ্রগতি খুবই কম। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, এমএরটি ১ ও ৫ প্রকল্প তিনটির মূল কাজ শুরুই হয়নি। পদ্মা রেল সংযোগের ৬০ ভাগ, বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর ৩৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সাসেক রোড কানেকশন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৫০ ভাগ। এক খাতের এত প্রকল্প হওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি হতাশাজনক বলে সমালোচনা রয়েছে।
এসব প্রকল্পের নেয়া ৭ হাজার কোটি ডলার ঋণ পরিশোধের সময় শুরু হচ্ছে ২০২৪ সাল থেকে। কতটা প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের? বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি এমন প্রশ্ন তুললেও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম এসব মন্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা এসমস্ত কথা বলছেন, তারা আগেও বলেছেন। পদ্মা সেতু নিয়ে নানা কথা বলেছেন তারা। কিন্তু কোনো আশঙ্কাই সত্যে পরিণত হয়নি। কাজেই এই নিরাশাবাদী অর্থনীতিবিদদের কোনো কথাই আমি ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্ব দেইনা বা গুরুত্ব দেয়ার কারণ আছে বলে আমি মনে করিনা।
বর্তমানে প্রায় ২ হাজার প্রকল্প চলমান। প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে এসব প্রকল্পকে তিন শ্রেনীতে ভাগ করেছে সরকার। এর মধ্যে যেসব প্রকল্প শুরু হয়নি সেসব প্রকল্পে অর্থায়ন আপাতত বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আগে ছিল করোনা। এখন আমাদের সামনে রয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। এ কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। দুর্নীতি আছে, নাই সেটা বলবো না। কোন দেশে দুর্নীতি নেই? তারপরও এসব চাপ মোকাবিলা করে কাজ এগিয়ে নিতে হচ্ছে।












