গত শনিবার রামাল্লার উত্তরে অবস্থিত সিঞ্জিল গ্রামের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গত বছরের (২০২৫ সালের জুলাই) ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের নির্মম পিটুনিতে নিহত ফিলিস্তিনি-বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক সাইফ মুসাল্লাতের মৃত্যুর এক বছর পূর্তির সংবাদ সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা ওই এলাকায় গিয়েছিলেন।
মুসাল্লাতকে হত্যার স্থানে পৌঁছানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা সেখানে জড়ো হতে শুরু করে। সিএনএনের দল ও অন্য সাংবাদিকরা সেখান থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করলে চারজন বসতি স্থাপনকারীর একটি দল নিজেদের গাড়ি দিয়ে রাস্তা আটকে দেয়। হামলাকারীদের হাতে কাঠ ও লোহার রড এবং পাথর ছিল। একপর্যায়ে একজন বসতি স্থাপনকারী ছুরি বের করে সিএনএনের গাড়ির টায়ার ফুটো করার চেষ্টা করে। এরপর তারা সাংবাদিকদের বহনকারী পেছনের আরেকটি গাড়ির ওপর লাফিয়ে পড়ে এবং গাড়ির কাঁচ ভেঙে ফেলে। সাংবাদিকদের দলটি সিঞ্জিল শহরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্য আরেকটি দল তাদের পথরোধ করার চেষ্টা করে এবং তাদের ধাওয়া করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের গাড়ি থেকে বেশ কিছু লাঠি ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এ ধরনের সহিংসতা ও সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মুসাল্লাতকে হত্যার পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ঘটনাটিকে একটি 'অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে মুসাল্লাতের বাবা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
সাংবাদিকদের ওপর এই হামলার মাত্র কয়েকদিন আগেই পশ্চিম তীরের হেব্রনের দক্ষিণাঞ্চলে বসতি স্থাপনকারীদের হাতে আটক হয়েছিলেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রো খান্না। তিনি তিন দিনের সফরে সেখানে গিয়েছিলেন। মার্কিন নাগরিকদের প্রতি সংহতি জানাতে তিনি তুরমুস আয়া গ্রামেও গিয়েছিলেন, যেখানে বসবাসকারী হাজার হাজার ফিলিস্তিনি-বংশোদ্ভূত আমেরিকান প্রতিনিয়ত বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার হন। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে খান্না রয়টার্সকে বলেন, বন্দুকধারী ২১-২২ বছর বয়সী ওই তরুণ বসতি স্থাপনকারী ও মার্কিন করের টাকায় চলা আইডিএফ সেনাদের চোখে তিনি চরম অহংকার দেখেছেন। একজন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য এবং অন্যান্য আমেরিকানদের আটকে রেখে এই সেনারা উপহাস করছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সম্প্রতি সিএনএন-এর ডানা ব্যাশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়টি ‘অবিশ্বাস্যভাবে অতিরঞ্জিত’ করা হচ্ছে। তিনি এই হামলাকারীদের ১৫০ জনের মতো একটি 'কিশোর অপরাধী'র দল বলে অভিহিত করেন। তার মতে, পুলিশ ও সেনাবাহিনী ব্যবস্থা নিলেও ইসরায়েলের আদালত দোষীদের প্রতি বেশ নমনীয়। তবে নেতানিয়াহুর এই দাবির বিপরীতে বাস্তব চিত্র হলো, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ইসরায়েলি সেনারা সেখানে নীরব দর্শক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকে, আর এর মাঝেই পুরো অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েল সরকার দ্রুতগতিতে নতুন নতুন বসতি সম্প্রসারণ করে চলেছে।
সূত্র: সিএনএন
বার্তা নিউজ/ এসভিএন











