মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পর আঞ্চলিক কূটনীতি নতুন করে জোরদার হয়েছে। এর মাঝেই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই মন্তব্য করলেন। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইরান ও উপসাগরীয় নেতাদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতা শুরুর খবরের জবাবে ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনায় মূলত পাকিস্তানই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রয়েছে এবং কাতারও সহায়তা করছে। চীনের সাথে ইরানের অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে তেহরানের উদ্বেগের সাথে বেইজিং একমত পোষণ করে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, অন্যান্য দেশের মতো চীন সাহায্য করলেও বিদ্যমান প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো মধ্যস্থতাকারী যুক্ত করা হয়নি। এদিকে, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে নৌপরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে যোগাযোগ সহজ করতে কাতার ও ওমানও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল সাইয়েদ আসিম মুনির এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সাথে টেলিফোনে আলাপ করেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সোমবার আবারও আরাঘচির সাথে কথা বলেছেন এবং তাঁকে সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এ সময় তারা অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের অবনতিশীল পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী নিয়ে মতবিনিময় করেন।
গত এপ্রিলে বিগত কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। এই আলোচনার সূত্র ধরেই জুনে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরিত হয়। এই স্মারকের অধীনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা পুনরায় মিলিত হন। সেখানে একটি বৃহত্তর চুক্তির লক্ষ্যে উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠন, সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেল তৈরি এবং ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপ গ্রহণের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছিল। তবে গত মাসে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি চাপের মুখে পড়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ
বার্তা নিউজ/পিআরএএন











