ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। বিষয়টিকে তেহরানের জন্য একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘শেষ সুযোগ’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি স্পষ্ট জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো বৈঠক হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো আলোচনার পরিকল্পনাও তাদের নেই। বর্তমানে ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আলোচনা ছাড়া অন্য কোনো দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে না বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
কূটনৈতিক এই ধোঁয়াশার মধ্যেই যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের প্রভাবে দীর্ঘ দিন ধরে এই রুটটিতে নৌ চলাচল স্তিমিত হলেও ট্রাম্প পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, চুক্তি বা পূর্ণ আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে।
এদিকে, সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নৌপথ ও জ্বালানি খাতকে চাপের মুখে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের অর্থনৈতিক ব্যয় বৃদ্ধি করাই ইরানের মূল কৌশল। মার্কিন প্রশাসন একাধিকবার কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে পরবর্তীতে পিছিয়ে আসলেও, চলমান এই সংঙ্কটে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি কোনো পক্ষই।
সূত্র: রয়টার্স











