দীর্ঘ চার দশক ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা এই লাইনের ওপর গড়ে উঠেছে স্থায়ী বসতবাড়ি, দোকানপাট, এমনকি গবাদিপশুর খামার। ফলে বাংলাদেশ অংশে উন্নত সংযোগ সড়ক তৈরি হলেও কেবল একটি সেতুর অভাব আর রেললাইন দখলের কারণে থমকে আছে বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ ছিল এই মোগলহাট রুট। তবে ১৯৮৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় ধরলা নদীর ওপর নির্মিত রেল সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ রুটে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে ১৯৯৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রুটটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো তদারকি না থাকায় মোগলহাট থেকে লালমনিরহাট পর্যন্ত দীর্ঘ রেললাইনের ওপর একে একে গড়ে ওঠে অবৈধ বসতবাড়ি ও গোয়ালঘর। লাইনের ওপর পাকা ও আধাপাকা ঘর তুলে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন অনেকে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সম্প্রতি বুড়িমারী স্থলবন্দরের ওপর চাপ কমাতে এবং ভারতের গীতালদহ ও আসামের সাথে সরাসরি সংযোগ পুনঃস্থাপনে মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের জুন মাসেও সরেজমিনে সীমানা ও কাঠামোগত মূল্যায়নের অংশ হিসেবে একাধিক পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালে ভুটানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মোগলহাট এলাকা পরিদর্শন করে এর ভৌগোলিক অবস্থান ও ত্রিপক্ষীয় বাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের মতে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে ভারতীয় অংশের সংযোগ সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা গেলে খুব সহজেই ভারত, নেপাল ও ভুটানের সাথে আঞ্চলিক বাণিজ্য শুরু করা সম্ভব, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরের পাশাপাশি ঘোচাবে চরম বেকারত্ব।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজ্জাক জানান, ‘মোগলহাট বন্দর চালু হলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি শতভাগ বদলে যাবে। শুধু দরকার সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এবং রেলের এই সম্পত্তি দখলমুক্ত করা।’
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক জানান, মোগলহাট স্থলবন্দরের ভৌগোলিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। সীমান্ত সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জমি দখলমুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
বার্তা নিউজ/ এসভিএন













