স্থানীয়দের দাবি, তার ছত্রচ্ছায়া এবং তিতাস গ্যাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধ গ্যাস সংযোগের কাজ পরিচালনা করেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাজহারুল ইসলাম মিলন। প্রশাসনের দাবি, তদন্তে স্থানীয় একটি চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস আগে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন কাজিরচরে একটি চুনাপাথরের কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। অভিযোগ রয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন মসূয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মিলন। তার সহযোগিতায় জমি ভাড়া, শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা এবং কারখানার কার্যক্রম শুরু হয়।
এ ঘটনায় গত ৩ আগস্ট রাতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগে মামলা দায়ের করে। তবে তিতাস-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ মামলায় উল্লেখিত অঙ্কের চেয়েও বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার আড়ালে তিতাসের মূল পাইপলাইনে ছিদ্র করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়া হয়। প্রায় দেড় মাস আগে পাইপলাইনে লিকেজ দেখা দিলেও তা গোপন রেখে মেরামতের চেষ্টা করা হয়। পরে বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়ার পর বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হতে শুরু করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যেসব জমির নিচ দিয়ে অবৈধ গ্যাসলাইন নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলন, সুলতান উদ্দিন ও সুমন মিয়ার জমিও রয়েছে। তাদের মতে, জমির মালিকদের অজান্তে এভাবে গ্যাসলাইন স্থাপন করা সম্ভব নয়।
এদিকে মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দেলোয়ার হোসেনকে এবং অপর আসামি করা হয়েছে কাজিরচর গ্রামের সুমন মিয়াকে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম চুক্তিকারী সুলতান উদ্দিনের নাম মামলায় রাখা হয়নি।
কাজিরচর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে তারা বিষয়টিকে একটি সাধারণ কারখানা নির্মাণের কাজ বলে মনে করেছিলেন। পরে নদীতে গ্যাসের বুদবুদ দেখা গেলে অবৈধ সংযোগের বিষয়টি সামনে আসে। তাদের অভিযোগ, কারখানার ভেতরে সাধারণ মানুষের প্রবেশও সীমিত ছিল।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলন। তিনি বলেন, জমির মালিকরাই কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করেছেন, এ ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চুক্তিপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলের কেউ জড়িত থাকলেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিতাস গ্যাসের কিশোরগঞ্জ জোনাল অফিসের ম্যানেজার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, লিকেজের খবর পাওয়ার পরই মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। তদন্তে তিতাসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, তদন্তে স্থানীয় একটি চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বার্তা নিউজ/এমএনকে











