উপন্যাসটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী চিকিৎসক ওয়াজেদ সাহেবকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে তিনি বিশ্বাস করে এসেছেন যে, তাঁর শান্ত ও ধার্মিক সন্তান ফয়সাল দুরারোগ্য ব্যাধিতে মৃত্যুবরণ করেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই বিশ্বাসে চিড় ধরে, যখন বাড়ির চিলেকোঠায় সংরক্ষিত ধুলোমাখা একটি বাক্স থেকে পাওয়া যায় ফয়সালের রেখে যাওয়া কয়েকটি পুরোনো অডিও ক্যাসেট।
এই ক্যাসেটগুলো ওয়াজেদ সাহেবকে তাঁর সন্তানের জীবনের এক গোপন অধ্যায়ের মুখোমুখি দাঁড় করায়। ধীরে ধীরে তিনি আবিষ্কার করতে থাকেন এমন এক জগত, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে তিনি এতদিন সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন। ছোট ছোট সূত্র ধরে, সন্দেহ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগোতে গিয়ে একজন বাবা শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যান এক নির্মম ও অপ্রত্যাশিত সত্যের সামনে।
রহস্য, আবেগ এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার মিশেলে নির্মিত এই উপন্যাসে রাহিতুল ইসলাম দেখিয়েছেন, কীভাবে একজন মানুষ প্রিয়জনকে হারানোর পরও সত্যের সন্ধানে নিজেকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। উপন্যাসটির প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ছাপ।
রাহিতুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তাঁর লেখনীতে সমসাময়িক ও জীবনঘনিষ্ঠ বিষয় তুলে ধরছেন। সাংবাদিকতা ও কথাসাহিত্যের সমন্বয়ে তিনি পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন নতুন নতুন বাস্তবতার সঙ্গে। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২৭টি।
সাহিত্যকর্মে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য
জাতীয় ফ্রিল্যান্সিং অ্যাওয়ার্ড (২০১৯) – আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প
এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার (২০২১) – কল সেন্টারের অপরাজিতা
রকমারি বইমেলা বেস্টসেলার অ্যাওয়ার্ড–২০২৫ (ফিকশন বিভাগ) – শামীম হুসাইন: ফ্রিল্যান্সার গড়ার কারিগর
লেখক জানান, সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা এই উপন্যাসটি পাঠকদের এমন এক অজানা ও গোপন জগতের মুখোমুখি দাঁড় করাবে, যা ভাবতে বাধ্য করবে সম্পর্ক, বিশ্বাস এবং সত্যের অর্থ নিয়ে।
উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে প্রতিভাষা প্রকাশন।














