বিভিন্ন ফেডারেল বিচারক একাধিক রায়ে উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের নীতির বিরোধিতাকারী নাগরিক ও গোষ্ঠীগুলোর বক্তব্য দমনের চেষ্টা চালিয়েছে। বোস্টনের ডিস্ট্রিক্ট জাজ উইলিয়াম ইয়ং এক রায়ে লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট মনে করেন যে সরকারের অপছন্দের কোনো মত প্রকাশের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া বৈধ। তার এই সুস্পষ্ট ভুল ধারণা আমেরিকানদের বাকস্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি।’
সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান কর্তৃক নিযুক্ত এই বিচারক ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের জন্য বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আটক, বহিষ্কার এবং ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন। অন্যান্য বিচারকরাও দেখিয়েছেন যে, প্রশাসনের নীতির সঙ্গে একমত না হওয়ায় হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুদান বাতিল, আইনি লড়াইয়ে নিয়োজিত ল ফার্মের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা এবং বিক্ষোভে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপরীত রায় দেওয়া বিচারকদের অ্যাক্টিভিস্ট বলে সমালোচনা করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ফেডারেল বিচার বিভাগ তাদের বেআইনি রায়ের মাধ্যমে মার্কিন জনগণের দেওয়া নির্বাচনী রায়কে বারবার বাধাগ্রস্ত ও হুমকির মুখে ফেলছে।’
রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম সংশোধনী সংক্রান্ত ৯৩টি মামলার মধ্যে ৭৫টিতেই প্রশাসন হেরেছে। এসব রায়ের বেশিরভাগই ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্টদের নিযুক্ত বিচারকদের কাছ থেকে আসলেও, অন্তত ১০টি মামলায় রিপাবলিকান বিচারকরাও প্রশাসনের বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। এর তুলনায়, জো বাইডেনের পুরো মেয়াদে একই ধরণের ২৭টি মামলার মধ্যে ১৩টিতে সরকার হেরেছিল, যার অধিকাংশই ছিল কোভিড টিকা বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত।
ট্রাম্প প্রশাসন এসব রায়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। কিছু মামলায় তারা সাময়িক জয় পেয়েছে; যেমন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীদের মুক্তি সংক্রান্ত একটি আপিলে বিচারকরা নিম্ন আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে রায় বাতিল করেন। অন্যদিকে, নবম সার্কিট আপিল আদালত ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় ট্রাম্পের ডিইআই-বিরোধী অনুদান কর্তনকে দৃষ্টিভঙ্গিভিত্তিক বৈষম্য হিসেবে চিহ্নিত করে নিম্ন আদালতের দেওয়া বৈষম্যবিরোধী রায় বহাল রেখেছেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ট্রাম্প বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধার ও সেন্সরশিপ অবসান সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে বিরোধীদের মতে, পরবর্তীতে জেন্ডার আইডিওলজি বা ডিইআই সংক্রান্ত অর্থায়ন বন্ধের নির্দেশনাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার উপর নতুন করে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞ টিমোথি জিক উল্লেখ করেন, গত শতাব্দীর শুরুতে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের আমলের পর আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাকস্বাধীনতা দমনে এত বিস্তৃত পদক্ষেপ নেননি। ওয়াশিংটনের আপিল আদালতও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হয়ে কাজ করা ল ফার্মের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপকে ক্ষমতা ও সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স
বার্তা নিউজ/এমএনকে











