বিষয়টির সাথে পরিচিত বেশ কয়েকটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূপৃষ্ঠে নিক্ষেপযোগ্য 'আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম' এবং নতুন প্রজন্মের 'প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল' এর প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করে ফেলেছে। পেন্টাগন পাইলট-চালিত বিমানের ঝুঁকি এড়াতে এসব নিখুঁত দূরপাল্লার অস্ত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করায় এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ড সংঘাত শুরুর আগে তাদের হাতে থাকা সব ল্যান্ড-বেসড মিসাইল নিঃশেষ করে ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বজুড়ে থাকা অন্যান্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে পুনরায় সরবরাহ নিশ্চিত করতে হচ্ছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান CSIS-এর তথ্য অনুযায়ী, দূরপাল্লার মিসাইলের পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৬৫% এবং 'থাড' ব্যালিস্টিক মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের অন্তত ৩৮% ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া নৌবাহিনীর 'টমাহক' ক্রুজ মিসাইলের বৈশ্বিক মজুদের প্রায় অর্ধেকই খরচ হয়ে গেছে।
এ নিয়ে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বৈঠকগুলোতে উত্তপ্ত আলোচনা চলছে। সামরিক উপদেষ্টারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই সংকট যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সক্ষমতাকে সীমিত করে দিতে পারে।
তবে এর জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম রয়েছে এবং বর্তমানে দেশীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো রেকর্ড মাত্রায় উৎপাদন বাড়াচ্ছে। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেলও জানান, মার্কিন সামরিক শক্তি যেকোনো অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও অপারেশন পরিচালনায় সম্পূর্ণ সক্ষম।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো হলেও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিপুল চাহিদার তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। ফলে চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে মার্কিন সক্ষমতা কতটা বজায় থাকবে তা নিয়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
বার্তা নিউজ/এমএনকে











.webp)