স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ তারিখ দুপুর ১২টার দিকে ভুক্তভোগী ওই নারী বাড়িতে একা ছিলেন। সেই সুযোগে প্রতিবেশী মৃত তায়জাল খাঁ-এর তৃতীয় পুত্র মহব্বত আলী ওই বাকপ্রতিবন্ধী নারীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তার চিৎকারে বাড়ির আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে মহব্বত আলী খাঁকে আটক করেন।
ঘটনাটির ব্যাপারে থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ ডাকা হয়। সালিশে মহব্বত আলীকে শারীরিক শাস্তি হিসেবে ‘২০টি জুতার বাড়ি’ দেওয়ার রায় দেওয়া হয় এবং সেখানেই বিচারকার্য সম্পন্ন করা হয়। গুরুতর এই অপরাধকে এভাবে লঘু শাস্তির মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এমন অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার কোনো সুযোগ নেই। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অপরাধীকে দ্রুত পুলিশের কাছে সোপর্দ করা উচিত ছিল।
ভুক্তভোগী নারীর ভাই এরশাদ ও ভাবি মরিয়ম খাতুন জানান, নাসির খানের আহ্বানে গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাবের সভাপতিত্বে সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ১নং ওয়ার্ডের জামায়াতের আমির বাবু মোল্লা, ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আ. মালেক, ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আরশেদ আলম ও খোরশেদ আলম।
ভুক্তোভোগীর ভাবি মরিয়ম খাতুন আরও জানান, সালিশি বৈঠকে প্রধানরা ২০টি জুতার বাড়ির রায় ঘোষণা করেন এবং তা কার্যকর করেন। আমাদের লোকজনকে সালিশে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমরা ওই সালিশের রায় মানি না। এদিকে রবিবার (১২ জুলাই ) রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ষণচেষ্টার এই বিচারের রায় প্রকাশ পেলে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ওই নারীর বড় ভাই এরশাদ আলী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পেছনে কারা জড়িত এবং কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জামায়াতের আমির বাবু মোল্লা বলেন, বিচার করেছেন মেম্বার-চেয়ারম্যান। আমি শুধু বিচারে গিয়েছিলাম। প্রথমে ৭টা জুতার বাড়ি দিয়ে গলায় কাদা মেখে সারা এলাকা ঘোরানোর কথা ছিল। কিন্তু আমি বলেছি, এটা না করে ২০টা জুতার বাড়ি দেন। জুতার বাড়ি দিয়ে দুই পক্ষের স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়েছে।
গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রামাণিক সালিশের রায়ের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘সালিশে আমাকে ডেকে নিয়েছিল। ওরাই বিচার করেছে। বিচারে রায় হয়েছে ২০টা জুতার বাড়ি দেওয়ার। আমার পরিষদের গ্রাম পুলিশ দিয়ে জুতার বাড়ি দেওয়া হয়। এই বিচারের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা হলে আমি বাদীপক্ষকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি।’
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালিশি বৈঠকের কথা শুনেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে অভিযোগ পেয়েছি। আজকেই মামলা রুজু করা হবে।
বার্তা নিউজ/ এসভিএন












