রবিবার (২ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
নিহত ওই নারীর নাম রিতা এবং অভিযুক্ত স্বামীর নাম অমর সিং। পুলিশ জানায়, স্ত্রীকে হত্যার পর অমর নিজেই স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়ে থানায় ডায়েরি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের জেরার মুখে তার কথাবার্তায় ব্যাপক অসংলগ্নতা ধরা পড়ে। এতে পুলিশের সন্দেহ ঘনীভূত হলে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অমর সিং নিজের ভয়ংকর অপরাধের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, বীমার বিপুল অঙ্কের অর্থ পাওয়ার লোভে তিনি আরও তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে কাঠ ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করেন। এরপর ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে প্রমাণ করতে রিতার মরদেহের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়।
গত বুধবার গভীর রাতে হামিরপুরের লালপুরা এলাকার বৈঠকা ধাম মন্দিরের কাছ থেকে রিতার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে রিতার শরীরে ১২টিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এছাড়া কিডনি ছাড়া তার শরীরের ভেতরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ মেলে।
এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে নিহতের বাবা সর্বেশ কুমার জানান, মাত্র দুই মাস আগে অমর সিং তার স্ত্রীর নামে ৪৪ লাখ রুপির একটি বীমা করেছিলেন। এমনকি ওই বীমার প্রথম কিস্তি হিসেবে তিনি ২ লাখ ৬০ হাজার রুপি জমাও দিয়েছিলেন।
হামিরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) অরবিন্দ কুমার ভার্মা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত স্বামী নিজেই নিখোঁজ ডায়েরি করতে এলে তার বক্তব্যে গরমিল পাওয়া যায় এবং এর সূত্র ধরেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যার আসল রহস্য উন্মোচিত হয়। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত অমর সিং এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বার্তা নিউজ/এফএইচআর










.webp)


.webp)
